প্রচ্ছদ জাতীয়, শিরোনাম, স্লাইডার

সঠিক পদক্ষেপের অভাবে বাংলাদেশে মারা যাবে ৫ লক্ষাধিক মানুষ!

নিউজ ডেস্ক | সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২০ | পড়া হয়েছে 29 বার

সঠিক পদক্ষেপের অভাবে বাংলাদেশে মারা যাবে ৫ লক্ষাধিক মানুষ!

নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে বা এর বিরুদ্ধে যদি দেশের সরকার যথাযথ পদেক্ষেপ না নেয়, তবে বাংলাদেশ থেকে অর্ধ মিলিয়ন বা ৫ লক্ষ মানুষ মারা যেতে পারে। নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এপিডেমিওলজিস্ট ও জনস্বাস্থ্য শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিবেদনে এমনটিই দাবি করা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের নীতিনির্ধারকরাও ঐ প্রতিবেদনটি শেয়ার করেছেন।

নেত্র নিউজের মাধ্যমে প্রাপ্ত ঐ প্রতিবেদনের অনুমান অনুসারে, “করোনাভাইরাস মহামারি শেষে (আনুমানিক ২৮ মে), মোট ৮,৯১,২০,১৬১ জন ব্যক্তির লক্ষণজনিত সংক্রমণ হতে পারে, ৩০,৩৭,৩৯৩ জন ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা লাগতে পারে, ৬,৯৬,৫৯৫ ব্যক্তিকে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) গুরুতর যত্নের প্রয়োজন হতে পারে এবং ৫,০৭,৪৪২ জন মারা যেতে পারে। ”
প্রতিবেদনটিতে অনুমান করা হয়েছে, দেশের মোট জনসংখ্যার ৮১ শতাংশ (১৩ কোটি ৩০ লক্ষ) মানুষ কোভিড-১৯’এ আক্রান্ত হতে পারে। তবে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ বা দমন করতে বাংলাদেশ সরকার কী কী পদক্ষেপ নিতে পারে যা এই রোগে আক্রান্ত ও মৃতের সম্ভাব্য সংখ্যা হ্রাসে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা এই প্রতিবেদনের লেখকরা নির্ধারণ করেননি।

বিশিষ্ট মহামারী বিশেষজ্ঞ নীল ফার্গুসনের নেতৃত্বে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকদের দ্বারা নির্মিত একটি মডেলের উপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের ওপর এই প্রতিবেদনটি তৈরী করা হয়েছে। ইম্পেরিয়াল কলেজের আসল প্রতিবেদনটি ব্রিটিশ এবং মার্কিন সরকারকে স্ব স্ব দেশে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেছিল।

মডেলটির ওপর র্ভির করে, বাংলাদেশের তুলনামূলক কম বয়সীদের ক্ষেত্রে গবেষকরা বলছেন, কম বয়সীদের যাদের মধ্যে লক্ষণ দেখা দিবে, তাদের ৩.৪% এর হাসপাতালের চিকিৎসার প্রয়োজন হবে যার ২২.৯% রোগীর ক্ষেত্রে ক্রিটিক্যাল কেয়ারের (অক্সিজেনসহ) প্রয়োজন হবে এবং মোট রোগীর ০.৩৮% (লক্ষণ প্রকাশ পাক বা না পাক সবার) বা লক্ষণ প্রকাশ যাদের পাবে, তাদের ০.৫৭% মারা যাবে।

বাংলাদেশ বর্তমানে যে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে, তা কতটা তীব্রতর হতে পারে বা পরিস্থিতি কত দ্রুত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, সেটাই এই রিপোর্ট উল্লেখ করেছে। “আমাদের গণনা অনুসারে আগামী ৩১ মার্চ, ২০২০ তারিখে বাংলাদেশে ৪,৬৪০ জনের মধ্যে নতুন করে করোনার লক্ষণ দেখা দিতে পারে, ৫৯ জন হাসপাতালে ভর্তি, এদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা গুরুতর ও নতুন ১ জনের মৃত্যু হতে পারে। ১১ই মে তারিখে সর্বাধিক ১ কোটি ৪১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৮৩৩ জনের মাঝে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ১৬ই মে তারিখে মোট ৪ লক্ষ ৮৩ হাজার ৬১৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হতে পারে। এর মধ্যে মোট ১ লক্ষ ১০ হাজার ৯১৩ জনকে ১৪ই মে তারিখে নিবিড় পরিচর্যা করতে হতে পারে এবং ২৬ মে তারিখে মো ৮০ হাজার ৭৯৬ জনের মৃত্যু হতে পারে।”

গবেষকরা অনুমান করছেন যে বাংলাদেশে মহামারীটি ২২শে ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হয়েছে। ২০২০ সালের ১৯ মার্চ তারিখে যখন প্রথম মৃত্যুর খবর যায়, তখন ইতিমধ্যে দেশে এই রোগের লক্ষণ রয়েছে এমন ১,৬৮৫ জন ছিল বলে তারা ধারণা করছেন।

লেখকরা এই প্রতিবেদনের সীমাবদ্ধতাও স্বীকার করেছেন, তবে সতর্কতাও দিয়েছেন যে, যদি এমন কিছু হয়ও, তবে তারা পরিস্থিতিটির ভয়ব্হতা এখনও সঠিক মূল্যায়ন করতে পারছেন না। বাংলাদেশের মডেলিংয়ে ব্যবহৃত বয়সের কাঠামোটি আসলে ২০১১ সালের আদমশুমারির তথ্যের উপর ভিত্তি করে। তবে লেখকরা মনে করেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশে বয়স্ক শ্রেণীর জনসংখ্যার প্রকৃত অনুপাত ঐ আদমশুমারিতে নির্ধারিত অনুপাতের চেয়ে অনেক বেশি উল্লেখ করে তারা বলেছেন, “কোভিড -১৯-এ যেহেতু বয়স্কদের মৃত্যুর হার যেহেতু বেশি, তাই সঠিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখিত অনুপাতের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।”

“তবে বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারির চেয়ে আগেও হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে বর্তমান আক্রান্তের সংখ্যা বেশিও হতে পারে”, যোগ করেন বিশেষজ্ঞরা।

“আমাদের এটা চিন্তা করলে চলবে না যে, মহামারিটি আমাদের আক্রমণ করার আগে আমাদের হতে প্রচুর সময় আছে। এ্টা ইতিমধ্যেই আক্রমণ করে ফেলেছে”, বলেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদনটির লেখকরা হচ্ছেন – ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথের মলয় কে মৃধা এবং রিনা রানী পল, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের দীপক কে মিত্র, জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লুমবার্গ স্কুল অফ পাবলিক হেলথের ইলান ল্যাব্রিক এবং ইফান জু।

এই প্রতিবেদনের প্রধান লেখক মলয় কে মৃধার সাথে নেত্রা নিউজ যোগাযোগ করলে তিনি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

২৩ শে মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ কোভিড -১৯ এর ৩৩ টি কেইসে তিনটি মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশে ভাইরাসের প্রথম কনফার্ম হওয়া কেইসটি ছিল ৮ ই মার্চ। দেশে বর্তমানে প্রবাসী, তাদের পরিবার এবং যারা তাদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এসেছিল, তাদের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে শুধুমাত্র ইপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পরীক্ষা নিরীক্ষা হচ্ছে।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ২২ শে মার্চ একটি বিবৃতি জারি করে বলেছিল যে, “বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশের কোভিড -১৯ পরিস্থিতি নিয়ে কোনও গবেষণা পরিচালনা, কমিশন বা প্রকাশ করেনি। যদি কোনও গবেষক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীনকে না জানিয়ে এবং অনুমতি ছাড়াই কোন রিপোর্ট প্রকাশ করেন তবে বিদ্যালয়ের নাম এর সাথে যুক্ত হবে না। আমরা বিষয়টি নিয়ে অফিসিয়াল তদন্ত শুরু করেছি এবং উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

২৩ শে মার্চ, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীপক কুমার মিত্র একটি বিবৃতি জারি করেছিলেন যে, “নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগ বা আমি নিজে কেউই এই প্রতিবেদন প্রকাশ করিনি বা তৈরীতে অংশীদার নই। যদি অন্য কোনও প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি আমার এবং আমার প্রতিষ্ঠানের (নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়) জ্ঞান ও অনুমোদন ছাড়াই কোন রিপোর্ট প্রকাশ করেন, তবে আমি এবং নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় কোনও দায় নেব না।”

এর আগে নেত্র নিউজ এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত পাঁচ গবেষকের একজনের সাথে কথা বলেছিল, যারা বলেছিল, “আমি বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে আছি, তাই এই মুহুর্তে আমি কথা বলতে পারছি না। আমাকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে শান্ত করতে দিন। তবে, আপনি যদি আমাকে আপনার ইমেল ঠিকানা দেন, আমি আপনার সাথে পরে যোগাযোগ করতে পারি।”

Comments

comments

Visitor counter

Visits since 2018

Your IP: 34.239.172.52

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০