প্রচ্ছদ খোলা কলাম, স্লাইডার

বিসিএস তুমি কার জন্য???

নাইলা ম্যাম | মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 131 বার

বিসিএস তুমি কার জন্য???

মোট পদ:২০২৪
মুক্তিযোদ্ধা কোটা :৩০%
মহিলা কোটা:১০%
জেলা কোটা:৫%
প্রতিবন্ধি কোটা:১%
উপজাতি কোটা:৫%
মোট কোটা:৫৬%
সাধারন :৪৪%
২০২৪ এর ৫৬% =১১৩৪
বাকি মাত্র ৮৯০ টা সিট দেশের সকল অভাগাদের জন্য!
আসুন এবার কিছু গল্প করি….
০.১৩ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য
৩০শতাংশ কোটা!!

এটাকে প্রহসন ছাড়া কি বলা যেতে পারে? জাতিকে মেধাশূন্য করার নীল নকশা বৈ আর কি।
বিসিএসে যেখানে আমার ভাই রাতের পুরোটা সময় মুখথুবরে বই নিয়ে পড়ে থাকে,রাত শেষে ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে যায় মাঝে মাঝে কোমরে ব্যাথা জাগে,তবুও থামেনা।পেইন কিলার নিয়ে আবার চেয়ারটেবিলে বসে যায় সেই ভাই যখন কোটা বৈষম্যর বেড়াজালে চোখের জল ফেলে চলে আসে,তখন এটাকে আপনি কি বলবেন? দোষটা কি তার? সে মেধাবী কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না,সে ভালো ছাত্র কিন্তু প্রতিবন্ধী না? তার রেজাল্ট ভালো কিন্তু নারী না? সে অধ্যবসায়ী কিন্তু উপজাতী না?
আচ্ছা মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্যই বা কি ছিল পশ্চিমের সাথে পূর্বের সকল বৈষম্যর মুক্তি,তাই তো? তবে কতটা যুক্তিসঙ্গত এই কোটা বৈষম্য? তরুন প্রজন্মের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে এর চেয়ে তো পাকিস্তানই ভালো ছিল। অন্তত নিজের মনকে শান্তনা দিতে পারতাম আমরা পরাধীন!
কিউরাইটস মাইন্ড ওয়ান্টস টু নো…”মুক্তিযোদ্ধারা কি এই কোটার জন্যই যুদ্ধ করেছিল”? ভাবতে অবাক লাগে,যেখানে এদেশে একটি হাতিকে নিয়ে সুশীল সমাজ বিভিন্ন আর্টিকেল লেখে, তখন এমন একটা বিষয় নিয়ে ভাবার মত কেউ নেই। এ দেশে কত কি নিয়ে আন্দোলন হয়, শাহবাগে গনজাগরণ হয় অথচ এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলার মত কেউ নেই!
কোটা যদি দেওয়ারই হয়,তবে সংসদে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত আসন দেওয়া হোক,ভাতা না দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্য মোটা অংকের সন্মানী দেওয়া হোক। চাকুরীক্ষেত্রে কেন বৈষম্য? শিক্ষা ক্ষেত্রে কোটা কেন? আজব লাগে,আমার এক প্রতিবেশী আন্টি প্রাইমারীতে জব করছে বাবার কোটা জোরে,আবার ওনার এক মাথামোটা ছেলেকে জিলা স্কুলে ভর্তি করেছেন নানার কোটার জোরে। অদ্ভুত সিষ্টেমরে ভাই, যেখানে আমরা মেরিট পজিশনে থেকে ভার্সিটিতে শেষের দিকের সাবজেক্ট পাই, সেখানে ঐ কোটার জোরে শুধুমাত্র পাশ মার্কস তুলে ফার্মেসী, কম্পিউটারর সায়েন্সের মত সাবজেক্ট পায়!
বিশ্বাস করেন, এই কোটা প্রথা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমার আপনার শ্রদ্ধার জায়গাটা সরিয়ে ফেলছে। তাদেরকে দয়া আর অনুকম্পার পাত্র বানিয়ে ফেলেছে এ কোটা প্রথা! কোটা ধারীরাই যদি চাকরি পাবে তবে আমরা কলুরবলদের মত খেটে মরছি কেন? আমার বাবার ঘামঝড়ানো টাকা কেন পড়াশোনার পেছনে ওড়াবো? সেই টাকায় মুদির দোকান দিয়ে বসবো, চায়ের স্টল দিবো, কিংবা অটো কিনে চালাবো!
আচ্ছা,,,
আমার বাপদাদায় যুদ্ধ করেনি বা ভুয়া সার্টিফিকেট কালেক্ট করে নাই, এতে আমার অপরাধ কি?
আমাকে কেন বৈষম্যর স্বীকার হতে হচ্ছে?
আচ্ছা ঐ ০.১৩ শতাংশ সার্টিফিকেটধারী দের অবদানেই কি দেশটা স্বাধীন হয়েছে? মোটেও না,দেশের প্রতিটা পরিবার কোন না কোন ভাবে যুদ্ধে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভাবে অংশগ্রহন করেছে। তবে ফলটা কেন শুধু সার্টিফিকেট ধারীরাই পাবে? দেশের মেধাবীদের নিয়ে একবার ভাবারমত কেউ কি নেই? কোটাধারীরাই যদি চাকুরী পাবে তবে দিন তাদের, আর আমাদের মত অভাগাদের দিনে দিনে না খাইয়ে মারার চেয়ে একবারে গুলি করে মেরে …।
পরিবারের বোঝা হয়ে বেচে থাকার চেয়ে গুলি খেয়ে মরা ঢের ভাল। অন্তত মায়ের কান্না জড়ানো কন্ঠে শুনতে হবে না-“খোকা এবার কিছু একটা কর”!! বাবার ঘামঝড়ানো টাকা মাস শেষে বেহায়ার মত হাত পেতে নিতে হবে না।

Comments

comments

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮