প্রচ্ছদ নবীনগরের সংবাদ, বিচিত্র নিউজ, শিরোনাম, স্লাইডার

নবীনগরে ৬ গ্রামের মানুষের চলাচলে একমাত্র বাঁশের সাঁকুটি ভাংগা, জনদুর্ভোগ চরমে

মো. নেয়ামত উল্লাহ: | শনিবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৮ | পড়া হয়েছে 679 বার

নবীনগরে ৬ গ্রামের মানুষের চলাচলে একমাত্র বাঁশের সাঁকুটি ভাংগা, জনদুর্ভোগ চরমে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামে ভাটা নদীর উপর প্রায় ২৫০ ফুট লম্বা এই বাঁশের সাঁকোটি(যেটি ওয়ালীশাহ্ সাঁকো নামে পরিচিত)ওই অঞ্চলের ৬টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের নবীনগর উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। এ নদীটি তিতাস নদীর একটি শাখা,ভাটা নদী নামে ওই ইউনিয়নে মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মেঘনায় গিয়ে মিলিত হয়েছে। স্বাধীনতা পর থেকে আজ আধুনিক এ ডিজিটাল যুগে নবীনগর পৌরসদরের নিকটতম এ এলাকায় আদৌ তেমন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। শুধুৃ একটি ব্রীজের জন্য এলাকাটি যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনুন্নত রয়ে গেছে। এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, মাদ্রাসা, মক্তব, এনজিও, মাধ্যমিক বিদ্যালয় , কিন্ডারগার্টেন, হাট বাজার রয়েছে ওই ছয় গ্রামে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এলাকার ছাত্র/ছাত্রী জনসাধারণ এই সাঁকো দিয়ে চলাচলা করছে। নবীনগর উপজেলায় যোগাযোগসহ প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চললেও ওই ইউনিয়নে কয়েকটি গ্রামে রাস্তা, কালভাট, সেতু নির্মিত হয়নি। ফতেহ্পুর গ্রামে ভাটা নদীর উপর দিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা গ্রামবাসি নিজ উদ্যোগেই করেছে। সম্প্রতি ওই বাঁশের সাঁকোটিও ভেংগে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠে আসে।

এলাকাবাসি দীর্ঘদিন ধরে একটি ব্রীজ নির্মানের দাবী করে আসছে। যোগাযোগ ক্ষেত্রে সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো জীবন জীবিকার তাগিদে নিজস্ব অর্থায়নে এই সাঁকোটি তৈরি করে চলাচল করে আসছে। এই সাঁকোটি তৈরী করতে প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়। প্রতি বছরই সাঁকোটি তৈরী করতে হয়। বছরের মাঝামাঝি সময়ে সাঁকোর বিভিন্ন অংশ ভেংগে বা নষ্ঠ হয়ে গেলে তাও মেরামত করতে হয়। মেরামতের জন্যও আরো প্রায় পঞ্চাশ ষাট হাজার টাকা খরচ হয়। স্থানীয়রা জানায়,এলাকাবাসির কাছ থেকে চাঁদা তুলে প্রতিবছরই সাঁকো তৈরী ও মেরামতের কাজ করা হয়। এ বছরও গত দুই সপ্তাহ ধরে সাঁকোটি নরভরে অবস্থায় ছিল ৫ অক্টোবর এটি ভেংগে পরে। স্থানীয়রা জানায়,সাঁকোটি তৈরীর জন্য চাঁদা তুলা হচ্ছে অচিরেই সাঁকোর কাজ শুরু হবে।

ফতেহ্পুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশিদা আক্তার বলেন, আমাদের ছোট ছোট শিশুরা এবং শিক্ষকরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক আগেই শুনেছিলাম এমপি মহোদয় এ ভাটা নদীর উপর ব্রীজ নির্মানের জন্য একটি ডিও লেটার দিয়েছেন কিন্তু এখন পর্যন্ত এর কার্যক্রম কি হয়েছে জানিনা।
শাহ্ আলম নামে এলাকার একজন তাঁর ফেসবুক আইডিতে ক্ষোভের সাথে ভিডিও চিত্রে জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বলেন, নির্বাচন এলে জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান কিন্তু পাস করার পর আর কোন খবর রাখেন না,স্বাধীনতার পর কত এমপি মন্ত্রী এলো গেল কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি আমাদের ইউনিয়নে। গ্রামের এ বাঁশের সাঁকো ও রাস্তা গ্রামবাসি নিজের উদ্যোগে করেছে,সরকারি কোন অনুদান আসেনি।

এ ব্যাপারে গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ডাঃ মোঃ শহিদুল হক বলেন, শুনেছি এমপি মহোদয় ডিও লেটারটি মন্ত্রনালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে,তদবিরের অভাবে প্রক্রিয়াটি এগুচ্ছে না।
এ ব্যাপারে নবীনগর(প)ইউপির চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমপি মহোদয়ের ডিও লেটারসহ জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ন ভাটা নদীর উপর ব্রীজ নির্মানের আবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে জমা দিয়েছি অনেক দিন হয়েছে। এমপি মহোদয়কে বেশ কয়েকবার বলেছি,বর্তমানে এ ব্যাপারে কোন অগ্রগতি আছে কি না জানিনা।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন,প্রকল্পটি মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে,একনেক বৈঠকে পাস হলে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে। কবে একনেট বৈঠক হবে প্রকল্পটি পাস হবে বলতে পারছি না ।

Comments

comments

Visitor counter

Visits since 2018

Your IP: 34.231.247.139

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০