প্রচ্ছদ জাতীয়, শিরোনাম, স্লাইডার

জানুয়ারি থেকে ওয়েবসাইটে নিয়ন্ত্রিত হবে ৩৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

নূরুজ্জামান মামুন | সোমবার, ০৬ নভেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 368 বার

জানুয়ারি থেকে ওয়েবসাইটে নিয়ন্ত্রিত হবে ৩৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করতে বেসরকারি ৩৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ডিজিটাল মনিটরিংয়ের আওতায় আসছে আগামী জানুয়ারিতে। নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারিত ফরমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানের সব তথ্য দৈনিক ইনপুট দিতে হবে। এর মাধ্যমে বের হয়ে আসবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক চিত্র। জানা যাবে শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের সব তথ্য। বন্ধ হবে অনিয়ম ও দুর্নীতি। এমনটাই দাবি করছে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অডিটের দায়িত্বে থাকা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের (ডিআইএ) কর্মকর্তারা। আর এ পদ্ধতির নাম দেওয়া হয়েছে ‘পিয়ার ইন্সপেকশন’ (সমজাতীয় পরিদর্শন)। কার্যক্রমটি চালু করতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে গত বুধবার ডিআইএ নির্দেশনা জারি করেছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসডিজি-৪ বাস্তবায়ন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও বিশ^মানে উন্নীতকরণ, দক্ষ, মানব সম্পদ সৃষ্টির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান যাচাই করতে ‘পিয়ার ইন্সপেকশন’ চালুর অনুমতি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ কর্মসূচি চালু করার জন্য ডিআইএর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নিবন্ধের জন্য ছক অনুযায়ী তথ্য আপলোড করবেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিজ উপজেলার, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিজ জেলার সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য ওয়েবসাইটে আপলোড করবেন। তদারকি করবেন ডিআইএর সংশ্লিষ্ট জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

ডিআইএর সূত্র জানায়, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ‘স্বমূল্যায়ন’ পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। শিক্ষার্থী, পিতা-মাতা এবং তাদের অবর্তমানে একজন অভিভাবক এই চার ব্যক্তির মোবাইল নম্বর, বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা সফটওয়ারে আপলোড করতে হবে। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বের শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সব তথ্য সফটওয়ারে দিতে হবে। শিক্ষক, কর্মচারী এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদেরও তথ্য আপলোড করতে হবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারীর দৈনিক হাজিরা, প্রতিষ্ঠানের দৈনিক আয়-ব্যয়সহ সব তথ্য আপলোট করতে হবে। অসঙ্গতি পেলেই ডিআইএর কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক এমএসএস দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দেবে। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক পরিদর্শন করবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মোবাইলের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী বা সচিব তাৎক্ষণিক বার্তা দিতে পারবেন।

সূত্র আরও জানান, শিক্ষকের পেশাদারিত্ব-শ্রেণি পাঠদান মূল্যায়ন, শিক্ষকের ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য (এসিআর), প্রতিষ্ঠান প্রধানের একাডেমিক কার্যক্রম মূল্যায়ন, শিক্ষার্থীর মেধা মূল্যায়ন, ক্লাস রুটিন পর্যালোচনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সমাবেশ, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, স্যানিটেশন পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ, শিক্ষার্থীর আসন ব্যবস্থা, মিলনায়তন, পাঠাগার, বিজ্ঞানাগার, ল্যাংগুয়েজ ল্যাব, কম্পিউটার ল্যাব, শিক্ষার্থীর ভাষা ব্যবহারের দক্ষতা যাচাই, আয়-ব্যয় বিবরণী, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও অভিভাবক-শিক্ষক সম্পর্ক এসব তথ্য দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের তথ্য সঠিক কি না তা যাচাই করার জন্য প্রতি শিক্ষাবর্ষের শেষে সমপর্যায়ের অন্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে দিয়ে পরিদর্শন (সমজাতীয়) করা হবে। আইটি শিক্ষকরা নিজ প্রতিষ্ঠানে তথ্য ইনপুট দেবেন। তথ্য যাচাই করার পরে প্রতিষ্ঠানের গ্রেডিং করকে ডিআইএ। জানতে চাইলে ডিআইএর যুগ্ম-পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘স্বমূল্যায়ন’ ও ‘সমজাতীয় পরিদর্শন’ এ দুই পদ্ধতির মাধ্যমে দৈনিক ভিত্তিতে দেশের ৩৬ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হবে। এর মাধ্যমে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি এই চার ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও আর্থিক চিত্র, বিশেষ করে অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন, এ কার্যক্রম আগামী জানুয়ারি মাসে সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে। তদারকি করার জন্য ৬৪ জেলায় ডিআইএ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পদ্ধতির সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য ২০১৫ সালের ১০ জুন রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) মিলনায়তনে শিক্ষাবিদসহ মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নিয়ে এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এরপর ১৮ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

Comments

comments

Visitor counter

Visits since 2018

Your IP: 54.159.51.118

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১