প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক, পরিবেশ, শিরোনাম, স্লাইডার

এখনই বিশ্বজুড়ে ছড়াচ্ছে না করোনাভাইরাস : ডব্লিউএইচও

নিউজ ডেস্ক | বুধবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | পড়া হয়েছে 193 বার

এখনই বিশ্বজুড়ে ছড়াচ্ছে না করোনাভাইরাস : ডব্লিউএইচও

চীন থেকে নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিশ্বের ২০টি’র বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়লেও পরিস্থিতি এখনো বিশ্ব মহামারীতে রূপ নেয়নি বলেই জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংন্থা (ডব্লিউএইচও)।

একই সময়ে যখন বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষ কোন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হন, ডব্লিউএইচও এর মতে, তখনই তাকে বিশ্ব মহামারী বলা যায়। এর সাম্প্রতিক একটি উদাহারণ হচ্ছে ২০০৯ সালের সোয়াইন ফ্লু। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সেই মহামারিতে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে।

নতুন কোন ভাইরাস, যেটিতে মানুষ সহজেই সংক্রমিত হয় এবং যা মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়, সেটি বিশ্ব মহামারীতে রূপ নেওয়ার আশংকা থাকে। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে এ সব বৈশিষ্ট্যই আছে। এর কোনো প্রতিষেধক না থাকায় ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকানো জরুরি।

সাধারণ সর্দি-কাশি ও জ্বরের মতো লক্ষণ থাকায় করোনাভাইরাসকে আলাদাভাবে শনাক্ত করা অনেকটাই কঠিন। এ কারণে জ্বর থাকলেই আতঙ্ক দেখা দিচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে। এ সুযোগে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সচেতনতার চেয়ে ভুল তথ্যের কারণে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে মানুষের মাঝে।

গুজব রোধ ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে গুগল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ল্যাব থেকে ভাইরাসের উৎপত্তি, প্রতিষেধক আবিষ্কার, আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা অতিরঞ্জিত করাসহ বিভিন্ন গুজব ও মাস্কের সঠিক ব্যবহারের ওপর আলোকপাত করার কথা জানায় সংস্থাটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক সংক্রামক প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনার প্রধান ড. সিলভি ব্রিয়ান্ড বলেন, অনেকেই মনে করছে করোনাভাইরাসের জীবাণু বাতাসে ছড়িয়ে থাকে। আসলে ব্যাপারটা তা নয়। মানুষের সরাসরি ও কাছাকাছি স্পর্শ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ জীবানু ফুসফুসে প্রবেশ করলেই এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সুস্থ মানুষের চেয়ে অসুস্থ মানুষের মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি। ভাইরাসটি নিয়ে বিস্তারিত জানানোর পাশাপাশি ভাইরাস প্রতিরোধে যে সব পদক্ষেপ নিতে হবে এ সম্পর্কে আমরা জানাবো।

বর্তমানে নভেল করোনাভাইরাস নামে পরিচিত ভাইরাসটির নামকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। একইসঙ্গে এখনো এই ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে না পড়ায় ‘প্যানডেমিক’ ঘোষণা দেয়ার সময় আসেনি বলে জানায় সংস্থাটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ বক্তব্যের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করলেও আশঙ্কাজনকভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লন্ডনের এ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক ডেভিড হেইম্যান বলেন, চীনে প্রতিনিয়ত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও দেশটির বাইরে ঠিক কত সংখ্যক মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে এটিই এখন দেখার বিষয়। যেহেতু এই রোগের প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয়নি তাই সচেতনতার দিকে সবাইকে গুরুত্ব দিতে হবে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। একইসঙ্গে নাক, কান ও চোখে হাত দেয়া থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ তাদের।

করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়ে ছড়াচ্ছে অনেক ভুল তথ্য ও গুজব। এ সব বন্ধে গুগল এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে নিয়ে অনলাইনে যৌথভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

Comments

comments

Visitor counter

Visits since 2018

Your IP: 3.235.181.103

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১